আজ ১৭ আশ্বিন ১৪২৯, রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২ , ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

একজন মানবিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলি


৩১ জুলাই ২০২১ শনিবার, ১১:১৬  পিএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


একজন মানবিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলি

লেখক: সৌরভ হোসেন সিয়াম, গণমাধ্যমকর্মী

মহামারী-দুর্যোগ পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে বুঝতে শেখায়। এই মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এদেশের মানুষ অনেক কিছু দেখেছে। জেনেছে এবং বুঝেছে তারও অধিক। চিনেছে মানুষ। সংক্রমণ মোকাবেলায় ন্যূনতম সুরক্ষাসামগ্রী না থাকা কিংবা অতিমারীর মধ্যেও স্বাস্থ্যবিভাগে নানা দুর্নীতি আর অনিয়মের সাক্ষী হয়েছে এদেশের জনগণ। এত এত প্রতিক‚লতার মধ্যেও কিছু মানুষ ছিলেন যারা কাজ করে গেছেন অক্লান্তভাবে। তাদের সংখ্যা কম হলেও এরা সবসময়ই কাজ করে যান নিষ্ঠার সাথে। নারায়ণগঞ্জবাসীও তেমন একজন মানুষকে পেয়েছিল। নাম তাঁর ডা. জাহিদুল ইসলাম। মেধা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা ডা. জাহিদ থেকে হয়ে উঠেছিলেন ‘জাহিদ ভাই’।

ডা. জাহিদ ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও)। করোনার সময়ে তাকে দেওয়া হয় জেলা করোনা ফোকাল পারসনের দায়িত্ব। এই গুরু দায়িত্বের জন্য তিনিই যে যোগ্য ছিলেন তা নারায়ণগঞ্জবাসী বিশেষ করে আমরা যারা পেশাগত কারণে খোঁজখবর রাখি, তারা অল্প সময়েই উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। কে, কখন, কোথায় আক্রান্ত হলেন, বিদেশফেরত কে, কোথায় আছেন, উপসর্গ নিয়ে কে মারা গেলেন, কোন হাসপাতালে কত ভর্তি, কত সক্ষমতা, কী লাগে, কবে লাগে, কী নেই; সাধ্যের বাইরে গিয়ে পুরো জেলাজুড়ে এমন আরও নানা বিষয়ের খোঁজখবর করতে হয়েছে তাকে। কোভিড আক্রান্ত অবস্থায় ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করেছেন রাতের পর রাত। দৈনিক ফোনের উপর ফোন রিসিভ করেছেন, কথা বলেছেন, জেনেছেন কোভিড আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ থাকা মানুষের কথা। দিয়েছেন দিক-নির্দেশনা। কোভিড বিষয়ে বন্ধু-স্বজনদের কেউ কিছু জানতে চাইলে ফট করেই জাহিদ ভাইয়ের নম্বর দিয়ে বলেছি, ‘কথা বলো তাঁর সঙ্গে। সমাধান কিংবা সমাধানের পথ খুঁজে পাবে।’ বিশ্বাস করুন, একটি লোকও নিরাশ হয়নি।
সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নেতিবাচক দিক দেখতে দেখতে ক্লান্ত চোখ ডা. জাহিদকে দেখে স্বস্তি পেতো। একটুও বানিয়ে বলছি না, অতিরঞ্জিতও নয়, দুর্নীতিবাজ চোর-বাটপারদের ভিড়ে ডা. জাহিদ যেন ‘গোবরে পদ্মফুল’। স¤প্রতি তিনি বদলি হয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। সরকারি চাকুরিতে বদলি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তার উপর এমন একজন কর্মঠ কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয় লুফে নিতে চাইবেই। যদিও বদলির বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে আবার ভিন্নতাও দেখি আমরা। এই জেলাতেই উদাহরণ আছে। তবে করোনার এই অবস্থায় তাকে বদলির সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে বলে মনে করি না। এমনটা মনে করেন না খোদ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক কর্মকর্তাই। তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জে করোনার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন ডা. জাহিদ। সংক্রমণ যখন উর্ধ্বমুখী, সেই সময়ে তার বদলি এবং নতুন আরেকজনের দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে দোলাচল রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার (৩১ জুলাই) নতুন কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন সদর উপজেলার সদ্য সাবেক ইউএইচএফপিও ডা. জাহিদুল ইসলাম। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন। ডা. জাহিদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আরেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনিই হয়তো পাবেন ফোকাল পারসনের দায়িত্ব। কিংবা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অন্য কোনো কর্মকর্তা। হয়তো ডা. জাহিদের চেয়েও নিষ্ঠাবান, কর্মঠ ও মানবিক একজন কর্মকর্তা হয়ে উঠবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনি। এমন প্রত্যাশাই রয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসীর।



সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

মুক্তমত -এর সর্বশেষ