আজ ১৬ আশ্বিন ১৪২৯, রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২ , ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে তোপের মুখে সভাপতি-প্রধান শিক্ষক


১১ এপ্রিল ২০২২ সোমবার, ০৪:০৬  পিএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে তোপের মুখে সভাপতি-প্রধান শিক্ষক

নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে ভর্তি নিয়ে অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়েছেন গভর্নিং বডির সভাপতি চন্দন শীল এবং প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ভুইয়া। রবিবার (১০ এপ্রিল) সকালে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে নতুন করে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির একটি তালিকা প্রকাশ করার পর তালিকায় নাম না থাকায় উত্তেজিত অভিভাবকরা সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষককে দুই ঘন্টা রুমের মধ্যে আটক করে রাখে।
এক পর্যায়ে সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক টিচার্স রুমে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এ সময় সভাপতি শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে চেষ্টা করলে গভর্নিং বডির সদস্যরা তাকে বাধা প্রদান করে। পরে কয়েকজন শিক্ষকের সহযোগিতায় চন্দন শীল স্কুল ত্যাগ করেন। অভিভাবকদের অভিযোগ শিক্ষক প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে সভাপতি স্কুলে ভর্তি নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, গত ডিসেম্বর মাসে তার সন্তান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভর্তির জন্য অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে। দীর্ঘ চারমাস যাবৎ আমরা ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছি। আজকে সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক একটি ভর্তির তালিকা প্রকাশ করলে সে তালিকায় আমার সন্তানের নাম না দেখে সভাপতি চন্দন শীলকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে স্কুল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ সময় প্রায় শতাধিক অভিভাবক সভাপতির আচরণের প্রতিবাদ জানালে তিনি দারোয়ান ডেকে অভিভাবকদের বের করে দিতে বলেন। এ সময় দারোয়ান সভাপতির কথা না শুনে অভিভাবকদের পক্ষে অবস্থান নিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত পরিস্থিতি দেখে সভাপতি কয়েকজন শিক্ষকের প্রহরায় স্কুল ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ভুইয়া জানান, তিনি নতুন স্কুলে যোগ দিয়েছেন। দীর্ঘ চারমাস যাবৎ ভর্তির একটি তালিকা জমা ছিল। সভাপতি সেই তালিকা এবং ফাইল নিয়ে গেছে। পরে চন্দন শীল নিজের অফিসে ফাইল নিয়ে শিক্ষক প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে একটি তালিকা আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে স্বাক্ষর করে ভর্তির ব্যবস্থা করছেন। এর বেশি আমি কিছু জানি না। সভাপতি একক সিদ্ধান্তে ভর্তির কার্যক্রম করেছেন।
গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য সরকার আলম এবং ওয়াহিদ সাদাত বাবু বলেন, সভাপতি চন্দন শীল কোন প্রকার সভা না করে একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করেছে। আমরা আজকে যখন বিষয়টি জানতে পারলাম অপেক্ষমান তালিকা থেকে কয়েকজনকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ সময় স্কুলে গিয়ে দেখলাম শতাধিক অভিভাবক প্রদান শিক্ষককে ঘেরাও করে রেখেছে। আমরা উত্তেজিত অভিভাবকদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সতর্ক ছিলাম।
এ ব্যাপারে চন্দন শীল জানান, আমি একক সিদ্ধান্তে ভর্তির ব্যবস্থা নিয়েছি। কয়েকজন শিক্ষক সহযোগিতা করেছে।

সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

মহানগর -এর সর্বশেষ