আজ ১৬ আশ্বিন ১৪২৯, রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২ , ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

সোনারগাঁয়ে সোনালী আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণী


১৩ আগস্ট ২০২১ শুক্রবার, ০৯:৪৪  পিএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


সোনারগাঁয়ে সোনালী আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণী
 
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সোনালী আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে গ্রাম অঞ্চলে পাট থেকে আঁশ কাজে ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা। গাছ পাট দীর্ঘদিন পানিতে ভিজিয়ে রেখে তা পঁচে যাওয়ার পর তা থেকে আঁশ পাট সংগ্রহ করে থাকেন কৃষকরা।
 
গত কয়েকদিনে সোনারগাঁ বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে দেখা যায়, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী-পুরুষ মিলে রাস্তার পাশে বসে কিংবা বাড়ির উঠোনে বসে গাছ পাট থেকে আঁশ সংগ্রহ করছেন।
 
আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে যখন বর্ষার পানিতে খাল-বিল, ডোবা-নালা ভরে ওঠে সোনালী স্বপ্ন নিয়ে সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে বেড়ে যায় কৃষক-কৃষাণীর ব্যস্ততা। প্রতি বছরের মতো চলতি মৌসুমে সোনারগাঁ নতুন পাট ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা। 
 
এখন চলছে পাটের আঁশ ছাড়ানো ও রোদে শুকানোর কাজ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডোবা ও বিলের পানির মধ্যে জাগ (পচাতে) দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন কৃষক। শুধু কৃষক নয় এলাকায় পাটকাঠির চাহিদা থাকায় কৃষকদের সঙ্গে প্রতিবেশিরাও আঁশ ছাড়িয়ে দিয়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করছেন। ইতোমধ্যে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। দামও ভাল। উপজেলার আন্দবাজার ও কাইকেরটেক হাটে বিভিন্ন জাতের পাট বেচা-কেনা হচ্ছে। তোষা জাতের পাট ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১শ টাকা আর মেচতা জাতের পাট ২ হাজার ৩শ থেকে ২ হাজার ৪শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
 
স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী মো. জজ মিয়া জানান, এ বছর পাটের দাম ভাল। হয়তো কৃষক লাভের মুখ দেখতে পাবেন। ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের পূর্ব সনমান্দী গ্রামের কৃষক শরিফ হোসেন তিনি এ বছর প্রায় তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। একই গ্রামের আবদুল আজিজ  দুই  বিঘা জমিতে পাট চাষ করেন।
 
সোনারগাঁ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর পাটের আবাদ হয়েছে ৩৩০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার মধ্যে সনমান্দী ও জামপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাটের চাষ করা হয়।
 
এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয় ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ পাট পাওয়া যায়।
 
প্রসঙ্গত, এক সময় এ উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে পাট চাষ করা হতো। পাট চাষীদের সুবিধার্থে এখানে পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলের পাট ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাট ন্যায্য মূল্যে এ পাট ক্রয় কেন্দ্রে বিক্রি করতো।
 
এছাড়া এ অঞ্চলের উৎপাদিত পাট স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে নারায়গঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জুট মিলে বিক্রয় হত। কিন্তু বর্তমানে পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ও আদমজী জুট মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে পাট চাষ কমে গেছে। তারপরও এলাকার কৃষকরা সোনালী আঁশের সুদিনের আশায় প্রতি বছর কিছু জমিতে পাট চাষ করে আসছেন।
 
নজরুল ইসলাম শুভ, সোনারগাঁ 

সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ