আজ ১৭ আশ্বিন ১৪২৯, রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২ , ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ

স্বামী-স্ত্রী খুন : ৬ ভাড়াটে খুনির মৃত্যুদন্ড


০৬ জুন ২০২২ সোমবার, ১১:০১  পিএম

সময় নারায়ণগঞ্জ


স্বামী-স্ত্রী খুন : ৬ ভাড়াটে খুনির মৃত্যুদন্ড

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বামী-স্ত্রী হত্যা মামলার ১৩ বছর পর ৬ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ জুন) নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এই রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট রকিবউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, রায় ঘোষণাকালে আদালতে তিন আসামি উপস্থিত ছিলেন।

দন্ডপ্রাপ্ত ছয়জন হলেন- আরিফ, সুমন, জামাল, সুমন, লোকমান, শফিক। তাদের মধ্যে সুমন, লোকমান ও শফিক পলাতক রয়েছে।

জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার জন্য ওই ছয়জনের সাথে চুক্তি করে স্বামী। সকলের সাথে মিলে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হলেও চুক্তির টাকা দিতে না পারায় স্বামীকেও হত্যা করে ভাড়াটে খুনিরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দেবই গ্রামের একই ডোবা থেকে কয়েল কারখানার শ্রমিক খাদিজা ও তার স্বামী রহমানের লাশ উদ্ধার হয়। জোড়া খুনের এই মামলার তদন্ত করে পুলিশ। তদন্তে হত্যার জন্য চুক্তি ও গণধর্ষণের বিষয়টি উদঘাটন করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। ১২ সাক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ছয়জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে আদালত মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রকিবউদ্দিন আহমেদ এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ আলী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েল কারখানায় কাজ করতেন খাদিজা। ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট সকাল ৭টায় বাসা থেকে কাজের জন্য বের হয়। পরে রাত ৮টায় বান্ধবী আমেনার সাথে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাত ৯টায় গাউছিয়া জুটমিলের সামনে পৌঁছানোর পর খাদিজা তার স্বামী রহমানের সাথে ট্যাক্সিতে উঠে চলে যায়। এরপর ১৬ আগস্ট স্থানীয় লোকজন রূপগঞ্জের দেবই গ্রামের বোচারবাগের রমিজউদ্দিনের ডোবার পানিতে কচুরিপানা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় খাদিজা ও রহমানের মরদেহ দেখতে পায়।

এই ঘটনায় খাদিজার পিতা আনোয়ার হোসেন রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তে চাঞ্চল্যকর বিষয় উঠে আসে। তদন্ত শেষে আদালতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ সরকার।

তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, দেড় বছরের সাংসারিক জীবনে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় রহমান ও খাদিজার। এরই জেরে রহমান স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই ছয়জনের সাথে চুক্তিও করে সে। ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট রহমান ও দন্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি মিলে খাদিজাকে গণধর্ষণ করার পর হত্যা করে। পরে চুক্তির ১০ হাজার টাকা দিতে না পারায় ছয় আসামি মিলে রহমানকেও হত্যা করে দু’জনের মরদেহই ডোবার পানিতে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেয় তারা।

সময় নারায়নগঞ্জ.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ